যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পমুক্ত হতে পারবে কি

যুক্তরাষ্ট্রের দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আরো দেড় মাসের কিছুটা সময় বেশি বাকি থাকলেও করোনা সংক্রমণের কারণে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে এরই মধ্যে ডাকযোগে অগ্রিম ভোট প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। ডাকযোগে ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রশ্ন ও তুমুল বিতর্কের মধ্যেও ৪ সেপ্টেম্বর নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকযোগে ভোট নেওয়া শুরু করেছে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় অন্য জনবহুল রাজ্যগুলোও এখন ডাকযোগে ভোট দেওয়ার কার্যক্রমের দিকে আশাতীতভাবে ঝুঁকে পড়ছে। এতে এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকযোগে ভোটের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক ভোট কারচুপির চেষ্টা করতে পারে বলে এখনো অভিযোগ করে চলেছেন রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি বৈধ ভোট প্রদান পদ্ধতি নিয়ে ট্রাম্পের এসব অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদের জন্য যোগ্য নন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ সাধারণ শ্বেতাঙ্গ জনসাধারণের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো অত্যন্ত জনপ্রিয়। সুতরাং ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প যেভাবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক দলীয় হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে শেষ পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, এবার আবার তার পুনরাবৃত্তি হলে ডেমোক্র্যাটরা অবাক হবে না বলে দলীয় নির্বাচন কৌশলবিদরা মত প্রকাশ করেছেন। সে কারণে ডেমোক্রেটিক দলীয় কৌশলবিদরা অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে এগোচ্ছেন বলে জানা গেছে। কারণ ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব রাজনৈতিক নীতিনৈতিকতা ও প্রথাবহির্ভূত একজন বেপরোয়া ও অপরিণামদর্শী মানুষ। এ অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীল মানুষের। শেষ পর্যন্ত এবারের অর্থাৎ তাঁর দ্বিতীয় টার্মের নির্বাচনে হেরে গেলে ট্রাম্প হয়তো নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতেও অস্বীকার করে বসতে পারেন। আর কোনোভাবে জিতে গেলে ট্রাম্প তাঁর ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের’ নীতি নিয়ে আবার স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করতে দ্বিধা বোধ করবেন না বলে ট্রাম্পবিরোধীরা মনে করে। তবে কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় অবস্থান বা শক্তির ওপরও আবার অনেক কিছু নির্ভর করে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েও ‘শেইম ডাক প্রেসিডেন্ট’ বা ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’-এর মতো তাঁকে কাল কাটাতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চালানো জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অনেক এগিয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দুই থেকে দশের ঊর্ধ্বে পাওয়া যাচ্ছে তাঁর জনপ্রিয়তার হার। সে হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক পিছিয়ে। তবে ডেমোক্র্যাট নির্বাচন কৌশলবিদরা শঙ্কিত ট্রাম্পের প্রান্তিক শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে। কারণ তারা বিভিন্ন বড় নগরীর ট্রাম্পবিরোধী শিবির কিংবা মিডিয়াজগতের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাহলেও পেনসিলভানিয়া, আরিজোনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিন রাজ্যে জো বাইডেন জনমতের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্লোরিডা, ওহাইও, আরিজোনা, উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার মতো রাজ্যের ভোটারদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার ডেমোক্র্যাটরা দলগত উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে অনেক নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত করেছে। তালিকাভুক্ত এই নতুন ভোটারদের মধ্যে ৪০ শতাংশ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক এবং ২৯ শতাংশ রয়েছে রিপাবলিকানদের। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হচ্ছে, এর বাইরে ২৯ শতাংশ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে স্বতন্ত্র হিসেবে। তারা কোনো দলের না হলেও তাদের ভোট একজন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন নির্বাচনী কৌশলবিদরা। স্বতন্ত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত ভোটারদের কাছে রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বামপন্থী, কমিউনিস্ট কিংবা শিল্পায়ন ও পুঁজি বিকাশের পরিপন্থী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। রিপাবলিকানরা প্রচার চালিয়েছে যে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের প্রচার-প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ও তাঁর দলীয় সমর্থকরা অভিযোগ করে চলেছেন যে ট্রাম্প কভিড-১৯ মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। ফলে কর্মজীবী মানুষ ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হারিয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্য দ্রুত পড়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। ‘মেইড ইন আমেরিকা’ বলে ট্রাম্প এত দিন যে স্লোগান দিয়ে গলা ফাটাচ্ছিলেন, এখন ক্রমে ক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পোৎপাদন তাঁর চোখের সামনেই ধসে পড়ছে। আমেরিকা ফার্স্ট বা নাম্বার ওয়ান স্লোগান এখন একটি মূল্যহীন সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েই চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা করেছেন। ক্ষমতাসীন হয়েই বাতিল করেছেন প্রস্তাবিত ‘ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি, সরে এসেছেন নর্থ আটলান্টিক ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (নাফটা) ও আন্তর্জাতিক প্যারিস পরিবেশ চুক্তি থেকে এবং নাকচ করেছেন বিশ্বের ছয় জাতি স্বাক্ষরিত ‘ইরান পারমাণবিক চুক্তি’। ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুজাতিক বাণিজ্য চুক্তির পরিবর্তে বেছে নিয়েছিলেন দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে দর-কষাকষির আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিন শেষ। তাঁর শাসনের প্রথম বছরেই তিনি সমগ্র বিশ্বব্যবস্থাকে বিভিন্নভাবে তছনছ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর নেতাদেরও। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান ও চীনের নেতারা এ ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমালোচনা করা সত্ত্বেও তিনি তাঁর নিজ কক্ষপথে এগিয়ে গেছেন। এখন আবার ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে চলেছেন যে শুধু ইরান নয়, বিশেষ করে চীনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে তিনি যেন দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে না পারেন।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য রাশিয়া সাইবার কারসাজি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেলিজেন্স প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে রবার্ট মুলারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবারও নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য বিভিন্ন ফন্দি আঁটছেন এবং তাঁকে জেতানোার জন্য রাশিয়া আবারও তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তাশীল মানুষের মতে, শাসনক্ষমতা, রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো অনভিজ্ঞ ও অপরিণামদর্শী ট্রাম্পের হাতে নিরাপদ নয়। বিশ্বের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে গত চার বছরে অর্থাৎ তাঁর প্রথম টার্মে অনেক পিছিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রথাগত রাজনীতি থেকে আসেননি। তাঁর যেমন নেই কোনো প্রশাসনিক পূর্বাভিজ্ঞতা, তেমনি নেই কোনো উচ্চশিক্ষা কিংবা উন্নত দর্শন। এ কথাগুলো আমি আগেও লিখেছি। ট্রাম্পের আর কিছু না থাকুক, আছে সব কিছু অগ্রাহ্য করার এক দারুণ স্পর্ধা। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন আড়াই লাখেরও বেশি ভোট পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায়। কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে পাস করে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইলেকটোরাল কলেজের ৫৩৮ জন সদস্যের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ২৭০টি ভোট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন হিলারি। কিন্তু কেন? এর যুক্তিগ্রাহ্য জবাব আজও পাওয়া যায়নি। সেই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছিলেন বটে, তবে আজও যুক্তরাষ্ট্রে তিনি জনগণের প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাননি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিখণ্ডিত করে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাঁকে চায় না, তবু তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে টিকে রয়েছেন। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আইনের এক নিদারুণ জটিলতা।

শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ কিংবা বর্ণবাদী হিসেবে অভিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অশ্বেতাঙ্গ অর্থাৎ হিসপানিক, লাতিনো, আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা এশীয় মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। তিনি হিসপানিক ও লাতিনোদের যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত করে তাদের অভিবাসনপ্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছেন। ১৫০ বছরের পুরনো সংবিধান সংশোধন করে আমেরিকায় জন্ম নেওয়া বহিরাগতদের সন্তানদের জন্মগত অধিকার অর্থাৎ নাগরিকত্ব একটি প্রশাসনিক ঘোষণা বলে কার্যকর করার হুকুম দিয়েছিলেন। মেক্সিকো সীমান্তে দুই হাজার মাইলব্যাপী প্রাচীর বা দেয়াল নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। বিশ্বের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নাগরিকদের সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণতার দায়ে পুলিশি নির্যাতন শুরু করেছিলেন, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সব কুকর্মের দোসর ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরান ও বিশেষ করে ফিলিস্তিনি আরবদের ওপর একের পর এক অন্যায় ও অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে গেছেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের অধিকৃৎ জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। ইসরায়েল অধিকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ইহুদিদের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আরববিশ্বে রাজতন্ত্র রক্ষার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুনভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও তুরস্ককে আরবদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। ইরান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা ছাড়া মুসলিম বিশ্বে সুন্নি মুসলমানদের নেতৃত্বদানের প্রশ্নে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এক বিশাল দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প সামরিক অবস্থান ও সহায়তাদানের মাধ্যমে। ট্রাম্প আরববিশ্বের নিরাপত্তার জন্য তাদের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছেন যুদ্ধবিমানসহ। ট্রাম্পের কারণে বিশ্ববাণিজ্য এখন এক অচলায়তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্রমেই এখন অত্যন্ত জটিল ও অনিশ্চিতের দিকে এগোচ্ছে। এই অবস্থায় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গদের দুই শিবিরে বিভক্ত করেছেন, যা এখন নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা ও মেরুকরণ ছাড়া নিরসন করা সম্ভব নয়। করোনা-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতি নতুন দিগন্তের দিকে ধাবিত হতে বাধ্য। সে ক্ষেত্রে এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রগতিশীল মানুষ এবং এমনকি শান্তিকামী বিশ্ববাসী কভিড-১৯-এর মতো ট্রাম্পের অপশাসন থেকে মুক্ত হতে বদ্ধপরিকর হয়ে পড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উল্লিখিত বিভিন্ন পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এখন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রান্তিক শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, যারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তির একটি মূল উৎস বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে অর্থাৎ আগামী ছয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত কোন দিকে যায়, এখন সেটিই একমাত্র দেখার বাকি।

লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক মিনিস্টার (প্রেস)
gaziulkhan@gmail.com

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY