শরৎ জেগেছে শুভ্র কাশফুলে

নিউজ ডেস্ক: তপ্ত রোদের সুপ্ত দহনে ওষ্ঠাগত জীবন। এসময় হেঁটে পথচলা কিংবা যান্ত্রিক বাহনে ভ্রমণও আরামদায়ক নয়। এর মাঝে করোনার ঝুঁকি তো আছেই। এসব কিছুর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আকাশ পানে তাকালে মন ভালো হয়ে যাবে। শরতের শুভ্রনীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘের ভেসে বেড়ানো। আর দিগন্তজোড়া প্রান্তরে কাশফুলের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য তো সোনায় সোহাগার মতো।

প্রতিদিনই কংক্রিটের শহরের বাসিন্দারা ছুটে যাচ্ছেন শহরের ভেতর ও আশপাশে কাশবনে। যেখানে জেগেছে শরৎ। ব্যস্ততাকে ক্ষণিকের অবসরে পাঠিয়ে কাশফুলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন এখন নগরবাসী। বিশেষ করে যারা ঘর থেকে দু’পা ফেলেই পাচ্ছেন কাশবনের ছোঁয়া, তাদের তো মন না হওয়ার উপায় নেই। তাই অনেকেই ঘুরতে যাচ্ছেন কাশবনে।

কাশবনে ঘুরে বেড়ানোর আগে কাশফুল সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা যেতে পারে। কাশফুল এক ধরনের ঘাসজাতীয় জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum. এরা উচ্চতায় সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর আদিবাস রোমানিয়া।

কাশফুলের বেশ কিছু ওষুধি গুণ রয়েছে। যেমন- মানুষ পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়া শরীরে ব্যথানাশক ফোঁড়ার চিকিৎসায় কাশমূল ব্যবহৃত হয়।

ঢাকার ভেতরে ও আশপাশে দেখা মিলছে কাশবনের। কাশফুল প্রেমীদের বেশিরভাগই ছুটে যান আফতাবনগরে। রামপুরা ব্রিজ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত জহুরুল ইসলাম সিটির ভেতর দিয়ে কিছুটা সামনে এগুলেই দেখা মেলে কাশবনের।

অনেকে আবার ভিড় জমান দিয়াবাড়ির কাশবনে। সেখানে কাশফুলের সঙ্গে নদীর তীরের হিমেল বাতাস দারুণ টানে দর্শনার্থীদের। তবে মেট্রোরেলের কাজের কারণে সেখানে এখন লোকের আনাগোনা অনেকটা কম বললেই চলে।

কেরানীগঞ্জের হযরতপুরের কালিগঙ্গা নদীর তীরেও ফুটেছে কাশফুল। বছিলা সেতু পার হয়ে আটিবাজার হয়ে আরও কিছুটা এগুলেই হযরতপুর। খেয়া নৌকায় নদী পার হলে দেখা মিলবে কাশবনের। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ কাশফুলের তেমনি এক রাজ্য। এছাড়া বসিলা সড়ক ধরে এগিয়ে ওয়াশপুরের বিভিন্ন ফাঁকা জমিতে কাশফুলের সমারোহ দেখা যায়।

গ্রামে গ্রামেও এখন নদীর ধারে জলাভূমিতে ঘন হয়ে ফুটে আছে কাশফুল। দুরন্ত ছেলে-মেয়েরা নৌকা নিয়ে বনে ঢুকে কাশের গুচ্ছ নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্য এখন নিয়মিত।

এদের দিকে বোধকরি কবিগুরু লিখেছিলেন- ‘শরতের মধ্যে শিশুর ভাব। তার, এই-হাসি, এই-কান্না। সেই হাসিকান্নার মধ্যে কার্যকরণের গভীরতা নেই, তাহা এমনি হাল্কাভাবে আসে এবং যায় যে, কোথাও তার পায়ের দাগটুকু পড়ে না, জলের ঢেউয়ের উপরটাতে আলোছায়া ভাইবোনের মতো যেমন কেবলই দুরন্তপনা করে অথচ কোন চিহ্ন রাখে না। ’

আফতাবনগরে গেলে দেখা মেলে মনোরম দৃশ্যের। করোনার ভয়কে পাশ কাটিয়ে, মানুষ মনের আনন্দে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন! কাশফুল আলতো করে ছুঁয়ে দেখছেন তরুণীরা। তুলছেন ছবি। যে ছবির ঠাঁই হচ্ছে ফেসবুকে, ইনস্ট্রাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কবিগুরুর ভাষায় বললে, ‘আমাদের শরতের বিচ্ছেদবেদনার ভিতরেও একটা কথা লাগিয়া আছে যে, বারে বারে নূতন করিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া আসিবে বলিয়াই চলিয়া যায়, তাই ধরার আঙিনায় আগমনী-গানের আর অন্ত পাই। যে লইয়া যায় সেই আবার ফিরাইয়া আনে। তাই সকল উৎসবের মধ্যে বড়ো উৎসব এই হারাইয়া ফিরিয়া পাওয়ার উৎসব। ’

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY