মিয়ানমারে আক্রান্তের রেকর্ড, ভারতের করোনা পরিস্থিতির অবনতি

মিয়ানমারে আক্রান্তের রেকর্ড, ভারতের করোনা পরিস্থিতির অবনতি

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায়ই রেকর্ড ভঙ্গ করে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ১৪ হাজার ৫১৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। ভারতে এক দিনে করোনায় সংক্রমণের রেকর্ড এটি। গতকাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, দেশটিতে এখন করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮। সারা দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি ও গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখের বেশি। ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় ৩৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট ১২ হাজার ৯৪৮ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রেই মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮৯৩ জনের। রাজধানী দিল্লিতে মারা গেছেন ২ হাজার ৩৫ জন। তৃতীয় স্থানে থাকা গুজরাটে মারা গেছেন ১ হাজার ৬১৮ জন। এরপর তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা, হরিয়ানা ও কর্ণাটক।

আক্রান্তের তালিকায়ও শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৮২৭ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এ রাজ্যে। এতে রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ হাজার ৪৪৯। তৃতীয় স্থানে দিল্লিতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ হাজার ১১৬ জন। অন্যদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সবশেষ এক দিনে করোনায় রেকর্ড আক্রান্ত দেখল মিয়ানমার। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে; যা এক দিনে সর্বোচ্চ। শুক্রবার মিয়ানমারের স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ২৮৬ জনে। এর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ১৮৭ জন। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নতুন আক্রান্ত সবাই কায়ইন প্রদেশের হাপা শহরে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। করোনা শনাক্ত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য তাদের ইয়াঙ্গুনের ওয়াবাগি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে আসা হতে পারে। নতুনদের কেউই নিজেদের ভূখন্ডে আক্রান্ত হননি। ১৯ জন থাইল্যান্ড থেকে এসেছেন, আর চারজন মালয়েশিয়া থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ ৯৭ হাজার ১৯০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৬১ জন। করোনায় মৃতের মধ্যে অর্ধসহস্রাধিক ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীও রয়েছেন। এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তখনো কেউ পরিস্থিতির এতটা অবনতি হবে বলে মনে করেনি। আগে থেকেই অবশ্য ১ জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক রবার্ট রেডফিল্ড। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় ধাপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে তা প্রথম ধাপের চেয়েও মারাত্মক হবে। সিডিসির এ পরিচালক বলেন, নতুন করে প্রাদুর্ভাব হলে তার সঙ্গে যুক্ত হবে মৌসুমি ফ্লু। সে ক্ষেত্রে এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অকল্পনীয় চাপ তৈরি করবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ব্রাজিলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নতুন করে রেকর্ডসংখ্যক ৫৪ হাজার ৭৭১ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ব্রাজিলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখ ৩২ হাজার ৯১৩-এ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২০৬ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৮ হাজার ৯৫৪-এ। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় চাপ পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর। ইতিমধ্যেই দেশটির বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ব্রুনো কোভাস। তিনি জানান, হাসপাতালগুলোয় বেডের চাহিদা বাড়ছে। পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পতনের মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ৯০ শতাংশই এখন পরিপূর্ণ। ব্রাজিলের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে করোনা পরীক্ষার হার কম। এজন্য বাস্তবতার চেয়ে কম রোগী শনাক্ত হচ্ছে। যথাযথ পরীক্ষা হলে আরও অনেক বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হতো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের অর্থনীতি ফের সচল করতে মরিয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই করোনার চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহী ট্রাম্পের এই ব্রাজিলিয়ান ভক্ত। তার নীতির কারণে বিদ্যমান করোনা মহামারীর মধ্যেই মন্ত্রিসভা ছেড়েছেন অন্তত দুজন মন্ত্রী।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY